“মায়ার নাম চারুলতা”
কে এম মন্জুর হোসেন খান ||
চারুলতা!
এই একটি নাম উচ্চারণ করলেই
কেন যেন সন্ধ্যাগুলো
একটু বেশি নীরব হয়ে যায়,
কেন পুরোনো বাতাসে
অচেনা কোনো স্মৃতি
চুপিচুপি ফিরে আসে?
জানি না—
এটা প্রেম ছিল,
নাকি নিছক মায়া;
শুধু জানি,
কিছু মানুষ দূরে চলে গেলেও
মনের ভেতর থেকে
দূরে যেতে পারে না।
চারুলতা,
মানুষ প্রেমে পড়ে বারবার,
কিন্তু মায়ায় পড়ে একবার;
প্রেম কখনো ফুরিয়ে যায়,
অভিমান একদিন থেমে যায়,
কিন্তু মায়া—
সে বড় অদ্ভুত জিনিস,
কোনো বিদায়ের পরও
দরজা বন্ধ করে না।
কখনো হঠাৎ বিকেলে
আকাশটা একটু মেঘলা হলে,
কোনো পুরোনো সুর
কানে এসে থামলে,
অথবা নির্জন পথে
হঠাৎ মনটা ভারী হলে—
মনে হয়,
কোথাও যেন একটা গল্প
এখনো শেষ হয়নি।
সেই গল্পে
তোমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই,
আমারও কোনো দাবি নেই;
শুধু কিছু স্মৃতি আছে—
যেগুলো সময়ের কাছে
আজও হার মানেনি।
কত কথা বলা হয়নি,
কত কথা বলেও
বোঝানো যায়নি;
কিছু অনুভূতি ছিল
যাদের কোনো নাম দিতে গেলে
তাদের সৌন্দর্যটাই
হয়তো নষ্ট হয়ে যেত।
তাই নাম দিইনি।
শুধু মনে রেখেছি—
একটি মানুষ এসেছিল,
কিছু মুহূর্ত রেখে গিয়েছিল,
তারপর সময়ের নিয়মে
দূরে চলে গিয়েছিল।
কিন্তু তার রেখে যাওয়া মায়া
থেকে গিয়েছিল।
চারুলতা,
তোমাকে ফিরে পাওয়ার
কোনো অপেক্ষা নেই আজ;
তোমার কাছে ফিরে যাওয়ার
কোনো পথও খুঁজি না।
শুধু কখনো
নিজের অজান্তে মনে হয়—
জীবনের কিছু মানুষ
আমাদের জীবনে আসে
থাকার জন্য নয়,
আমাদের ভেতরে
একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে
থাকার জন্য।
তুমিও হয়তো
তেমনই একজন।
তাই আজ
তোমার নামের পাশে
কোনো প্রশ্ন রাখি না,
কোনো অভিমানও নয়।
শুধু নীরবে বলি—
চারুলতা,
যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।
কারণ কিছু মানুষকে
ভালোবাসার চেয়েও বেশি
মনে রাখা যায়—
কোনো দাবি ছাড়া,
কোনো প্রত্যাশা ছাড়া,
শুধু একটুকরো মায়া হয়ে।
আর যদি কোনোদিন
আকাশের দিকে তাকিয়ে
অকারণে মনটা ভালো হয়ে যায়,
তবে ভেবো না
কেন এমন হলো।
হয়তো কোনো এক অসমাপ্ত গল্প
দূর থেকে
তোমার জন্য
নিঃশব্দে শুভকামনা পাঠিয়েছে।
চারুলতা!
তোমার গল্প শেষ হয়নি—
শুধু তার কিছু পৃষ্ঠা
সময় নিজেই
নীরব করে রেখেছে।
=====“মায়ার নাম চারুলতা”=====
আমার অন্য কবিতা:

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন